সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:০৫ অপরাহ্ন

অবশেষে সেই প্রকৌশলীর বদলি, জেলা জুড়ে স্বস্তি

লালমনিরহাট প্রতিনিধি॥ একই কর্মস্থলে প্রায় সাত বছর কাটিয়ে অবশেষে কালীগঞ্জের সেই আলোচিত-সমালোচিত উপজেলা প্রকৌশলী পারভেজ নেওয়াজ খানকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে তার বিরুদ্ধে উঠেছে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি থেকে শুরু বিভিন্ন অভিযোগ। সহকর্মীরাও ছিলেন তার উপর নাখোশ। তবে পরে তিনি বাধ্য হয়ে নিজেই তদবির করে কালীগঞ্জ ছেড়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

তার এ বদলিতে ঠিকাদার থেকে শুরু করে অফিসের সহকর্মী এমনকি উপজেলা প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তাও স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তাদের পাশাপাশি সাধারণ জনগনও খুশি হয়েছেন। কারণ তার আমলে কাজ শুরু হয়ে সদ্য চালু হওয়া গঙ্গাচড়া শেখ হাসিনা সেতুসহ সংযোগ সড়ক নির্মাণের শুরু থেকেই দফায় দফায় উঠেছিল অনিয়মের অভিযোগ। এর বাইরে ঠিকাদারদের সাথে আঁতাত করে অনেক এলাকার বিভিন্ন অনিয়মেও উঠেছিল নিম্নমানের কাজের অভিযোগ। মোটা অংকের ঘুষ ছাড়া তিনি বিলেও সই করতেন না বলে অভিযোগ রয়েছে অনেক ঠিকাদারের। এই অবস্থায় সোমবার রাতে অনেকটা নিরবেই চলে গেলেন বলে জানা গেছে। প্রকৌশলী পারভেজ নেওয়াজ খান কালীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করে। তবে সেই বিদায় সংবর্ধণা অনুষ্ঠানে যোগ দেননি কোন রাজনৈতিক ব্যাক্তি ও ঠিকাদাররা। আমন্ত্রণ পেয়েও সেখানে আসেননি প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তা। ফলে নিজের অফিসেই দায়সারা ভাবে সহকর্মী ও হাতে গোণা কয়েকজনের উপস্থিতিতেই করতে হয়েছে বিদায় অনুষ্ঠান। সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে এসব তথ্য।

স্বস্তি প্রকাশ করে কালীগঞ্জের একাধিক ঠিকাদার অভিযোগ করে বলেন, ‘পারভেজ নেওয়াজ খান একজন দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলী। তাকে ঘুষ না দিলে রাস্তা, কালভার্টসহ সরকারের উন্নয়নমূলক কাজে কৌশলে বাঁধা দিতেন। আবার মোটা অংকের ঘুষ ছাড়া বিলেও সই করতেন না তিনি। ফলে তার বদলির দাবি ছিল দীর্ঘদিনের’। কালীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলীর দপ্তরে কর্মরত অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, ‘সে কখনোই আমাদের সাথে ভালো ব্যবহার করতেন না। তিনি টাকা ছাড়া কিছুই বুঝতেন না’।

জানা গেছে, কালীগঞ্জ উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগদানের পর পরেই তাকে দেয়া হয় ভারপ্রাপ্ত হিসেবে উপজেলা প্রকৌশলীর দায়িত্ব। দায়িত্ব পাবার কিছুদিনের মধ্যেই তাকে দেয়া হয় তিস্তা নদীর ওপর সদ্য চালু হওয়া ৮৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের গঙ্গাচড়া শেখ হাসিনা সেতু-সংযোগ সড়ক নির্মাণের। এর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় প্রায় ১২৪ কোটি টাকা। সেতু নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই উঠতে থাকে নানা অনিয়মের অভিযোগ। স্থাপনের আগেই ভেঙ্গে পড়ে মূল সেতুর একাধিক গার্ডার। দফায় দফায় সংযোগ সড়ক নির্মাণ হলেও প্রায় প্রতিবারেই উঠেছে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ। সর্বশেষ গত ১৬ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেতুটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের দুদিন আগে সংযোগ সড়কের প্রায় ৪০ ফুটসহ একটি ব্রিজের একাংশ ধসের ঘটনা ঘটলে ব্যপক সমালোচনা শুরু হয় গণমাধ্যমে।

এর আগে মূল সেতুর দক্ষিণ প্রান্তের ৫০০ মিটার এ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণে তিনি নিজেই ‘ঠিকাদার’ ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। জানা গেছে, কাগজে-কলমে জনৈক এক ঠিকাদারের মাধ্যমে কাজ নিয়ে ওই ঠিকাদারের সাথে যৌথভাবে কাজ শুরু করলেও পরবর্তিতে টাকা নিয়ে ঠিকাদারের সাথে মনমালিন্য শুরু হয় ওই প্রকৌশলীর। ফলে একসময় ওই ঠিকাদার এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যান। দীর্ঘ সময়ে ধরে কাজ বন্ধ থাকার পর লালমনিরহাট এলজিইডি বিশেষ ব্যবস্থায় শেষ পর্যন্ত তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করে।

সার্বিক বিষয়ে মুঠোফোনে কথা হলে কালীগঞ্জের বিদায়ী উপজেলা প্রকৌশলী পারভেজ নেওয়াজ খান নিজের বিরুদ্ধে ওঠা নানা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘প্রায় সাত বছর সেখানে ছিলাম। তাই স্বাভাবিক নিয়মেই বদলি হয়েছে’।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com